ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ায় ৩৯ টি মনোনয়নের মধ্যে ২৬ জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান।শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে মনোনয়ন বাছাই শেষে এই তথ্য জানান তিনি। এর আগে শুক্রবার থেকে মনোনয়ন যাচাই বাছাই শুরু হয়।
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বগুড়া-৪ থেকে ৭ মোট চারটি আসনের মনোনয়ন বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সকালে বাছাইকালে প্রথমে বগুড়া-৬ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়। আসনটিতে মোট প্রার্থী ছিল ৫ জন। যাচাইয়ে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাতিল করা হয় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী দিলরুবা নূরী, জেএসডি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আবু নোমান মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ।
এরপর বগুড়া-৭ আসনের মনোনয়ন বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছিলেন।আসনটি বরাবর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বরাদ্দ থাকতো। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুবরণ করেন। এ জন্য তার নির্বাচনী কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান।
বাকি ৪ প্রার্থীর মধ্যে একজনের দলীয় তথ্য সঠিক না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তিনি হলেন বাংলাদেশ মুসলীম লীগের মো. আনছার আলী।
৩ জনের প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তারা হলেন, গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম রব্বানী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম।
বগুড়া-৪ আসনে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তাদের সবার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মোশাররফ হোসেন, জাতীয় পার্টির শাহিন মোস্তফা কামাল, জামায়াতে ইসলামীর মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, এলডিপির কামরুল হাসান মো. শাহেদ ফেরদৌস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুহা: ইদ্রিস আলী।
বগুড়-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৫ জন। এর মধ্যে আয়করের ১০-বি ফরম ও শিক্ষাসনদ না দেয়ায় এলডিপির মনোনীত প্রার্থী খান কুদরত-ই-সাকলায়েনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বৈধতা পাওয়া চার প্রার্থী হলেন, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দবিবুর রহমান, বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, সিপিবির শিপন কুমার রবিদাস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মীর মো. মাহমুদুর রহমান।
গতকাল শুক্রবার বগুড়া-১, ২ ও ৩ আসনের মোট ১৯ জনের মধ্যে ১২ টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান। বাতিল করেন ৭ জনের মনোনয়ন। বাতিল হওয়ার মধ্যে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ উল্লেখযোগ্য।
বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান জানান, ৩৯টি মনোনয়নের মধ্যে ২৬ টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর ১২ টি মনোনয়ন বাতিল হয়। বাতিল হওয়া মনোনয়ন ফিরে পাবার জন্য প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আগামী ৫-৯ জানুয়ারি এই আপিলের সুযোগ আছে।
