অনলাইনে জুয়া খেলার প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার লোটোর শোরুম মালিক পিন্টু আকন্দের। এই টাকা আদায়ের জন্য পিন্টুকে অপহরণ করেন তার বন্ধুরা। উদ্দেশ্য ছিল টাকা আদায়। কিন্তু অপহরণের পর শ্বাসরোধে মারা যান এই ব্যবসায়ী।
অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাতে এমনটা জানিয়েছে বগুড়ার পুলিশ।
এই অপরাধে পুলিশ এখন পর্যন্ত ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে । তারা হলেন, মাইক্রোবাস চালক সানোয়ার (৪০), ভাড়া নেওয়ায় সহযোগিতাকারী শাকিব (৩৫), এনামুল (৩৮) ও বাবলু মিয়া (৪০) এবং জেলহজ আলী জুয়েল ( ৩০)।
এর মধ্যে আদমদীঘি উপজেলার বাসিন্দা এনামুল ও বাবলু মিয়া গত বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরবর্তীতে সানোয়ার ও শাকিবও জবানবন্দি দেন। অপরজনের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিশ জানায়, পিন্টু আকন্দ খুনের ঘটনায় তার স্ত্রী সাবিনাজ বেগম বাদী হয়ে ৬-৭ জন অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। এই মামলায় ওই ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে।
এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার আদমদীঘি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন।
আসামিদের স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, নিহত পিন্টু আকন্দের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দুপচাঁচিয়া উপজেলার ডিম শহর এলাকার জুয়েল ও সজীব। তাদের মাধ্যমে পিন্টু অনলাইনে জুয়ার খেলার মুদ্রা বিট কয়েন, জুয়া খেলার অ্যাপ ও সফটওয়্যার কেনাবেচা করতেন। সম্প্রতি বিট কয়েন কেনাবেচার ১০ লাখ টাকা নিয়ে জুয়েল ও সজীবের সঙ্গে পিন্টুর বিরোধ হয়। এ নিয়ে দুই সপ্তাহ আগে সালিস বৈঠক করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
পরে তারা ব্যবসায়ী পিন্টুকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আসামি ধরার নাম করে চালক সানোয়ারের কাছে মাইক্রোবাসটি ভাড়া নেন শাকিব। গত ২২ ডিসেম্বর রাত সোয়া ৯ টার দিকে দুপচাচিয়া বাজার এলাকায় সেই মাইক্রোবাসে জুয়েল, সজীব, মুক্তার ও জোবায়ের লোটো শোরুম থেকে পিন্টুকে মাইক্রোবাসে তুলে নেন। তাদের উদ্দেশ্যে ছিল পিন্টুকে এনামুল ও বাবলুর কাছে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা আদায় করবে। মাইক্রোবাসে ওঠানোর পর পিন্টু চিৎকার শুরু করলে তার মুখ স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে তাকে মাইক্রোবাসের পেছনের সিটে ফেলে রাখা হয়। আদমদীঘি উপজেলার শালগ্রামে এনামুল ও বাবলুর কাছে পৌঁছানোর পর তারা দেখতে পান পিন্টু মারা গেছেন।
এরপর লাশ ফেলে দেওয়ার জন্য মাইক্রোবাস নিয়ে আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের রাস্তায় ঘুরে বেড়ান তারা। মাইক্রোবাসের মালিক জিপিএসের মাধ্যমে গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক এবং চালক ফোন রিসিভ না করায় তিনি গাড়িটি বন্ধ করে দেন। এর পরপরই তারা পিন্টুর লাশ মাইক্রোবাসে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
পরে সেদিন গভীর রাতে ব্যবসায়ী পিন্টু আকন্দের লাশ ও মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে আদমদীঘি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন জানান, ব্যবসায়ী পিন্টু হত্যায় এখন পর্যন্ত ৫ জন গ্রেপ্তার আছে পুলিশের কাছে। তাদের সবারই রিমান্ড শেষ হয়েছে। আসামিরা একেক জন একেক বিষয়ে অপরাধ স্বীকার করেছেন। কেউ গাড়ি চালানোর সঙ্গে জড়িত। কেউ জুয়া খেলার সঙ্গী ছিলেন। দুজন অপহরণ ও হত্যায় সহযোগীতার দায় স্বীকার করেছেন।
